২০২০ সালের পর থেকে সেখানে ঘরবাড়ির দাম ও জীবনযাত্রার খরচ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় সাধারণ মানুষ কর কমানোর জন্য বড় ধরনের আন্দোলন শুরু করেছে। এ কর বিরোধী আন্দোলনের কারণে দেশটির স্থানীয় সরকারগুলোর বাজেট সংকটে পড়েছে, ফলে ব্যাহত হতে পারে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের মতো জরুরি নাগরিক সেবা। খবর সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য এখন কর বিরোধী আন্দোলনের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আগামী নভেম্বরে সেখানকার ভোটাররা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যালট সংশোধনীর পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেবেন। এটি পাস হলে ফ্লোরিডার প্রায় ৬০ শতাংশ বাসিন্দাকে সম্পত্তি করের আওতা থেকে পুরোপুরি বাদ দেয়া সম্ভব হবে। এ সংশোধনীতে প্রাথমিক বাসস্থানের করছাড়ের সীমা ২০২৮ সালের মধ্যে ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে আড়াই লাখ ডলার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ও ভাড়ার বাড়ির বার্ষিক কর বৃদ্ধির হার ১০ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।
তবে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে স্থানীয় সরকারগুলো চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। ফ্লোরিডায় কোনো ব্যক্তিগত আয়কর নেই। ফলে শহরগুলো তাদের নাগরিক সেবা সচল রাখতে পুরোপুরি সম্পত্তি ও বিক্রয় করের ওপর নির্ভর করে।
স্থানীয় সরকার অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, এ আইন পাস হলে ২০২৭ সালে ৩৬০ কোটি ডলার এবং ২০২৮ সালে ফ্লোরিডার স্থানীয় সরকারগুলো প্রায় ৬৪০ কোটি ডলারের রাজস্ব হারাবে।
এ সংকটের বড় উদাহরণ ওভিয়াডো নামের একটি ছোট শহর। সেখানে ১০ বছর ধরে একটি আধুনিক পুলিশ স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু শহরের অর্ধেক রাজস্বই আসে সম্পত্তি কর থেকে। ওভিয়াডোর মেয়র মেগান স্লাডেক জানান, করছাড়ের এ প্রস্তাব পাস হলে এক বছরের মধ্যে শহরের সব জমানো টাকা শেষ হয়ে যাবে এবং তারা পুরো পুলিশ বিভাগটিই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ১৯৭৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘প্রোপজিশন ১৩’ পাসের মাধ্যমে সম্পত্তি কর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পত্তি করের কারণে বাড়ির মালিকরা নগদ টাকা না পেলেও হঠাৎ বিশাল অংকের ট্যাক্স বিল হাতে পান, যা তাদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। এরই মধ্যে গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪টি অঙ্গরাজ্য সম্পত্তি কর সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। একদিকে কর কমানোর সমর্থকরা বলছেন, এর মাধ্যমে সরকারি অপচয় কমবে; অন্যদিকে সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, রাজস্বের ঘাটতি মেটাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভাড়াটে ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর করের বোঝা আরো বেড়ে যেতে পারে।